ভারতে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি অনুসারী ও লাখো সদস্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক (স্যাটায়ারিক্যাল) এই অনলাইন আন্দোলনটি নিয়ে যখন দেশজুড়ে তুমুল চর্চা চলছে, ঠিক তখনই এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে একই সাথে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই তরুণ এক সাক্ষাৎকারে জানান, স্রেফ ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি রসাত্মক পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু সেই সাধারণ পোস্টটিই ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বারুদের মতো কাজ করে। বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই পোস্টে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেয়। রসিকতার ছলেই তরুণরা তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম বা রাজনৈতিক দল গঠনের দাবি তুলতে থাকে। এর জের ধরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ সাইনআপ করে, যা পরবর্তীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এক বিশাল অনলাইন আন্দোলনে রূপ নেয়।
খুব অল্প সময়ে এই প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কেবল ইনস্টাগ্রামেই সিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ২২ মিলিয়নে (২ কোটি ২৫ লাখ)। পাশাপাশি, দলটির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০ লাখের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। সিজেপির এই ভার্চুয়াল উত্থান ভারতের অনেক প্রতিষ্ঠিত ও মূলধারার রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া শক্তিকেও বহুগুণে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
তবে এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আতঙ্কেও দিন কাটছে অভিজিতের। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারতে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি হয়রানি বা আটকের মুখোমুখি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তবে সব চাপ উপেক্ষা করেই এই ডিজিটাল আন্দোলন চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, তরুণদের এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আকস্মিক উত্থান এবং এটি নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক গুঞ্জনের মাঝে ভারতের প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কণ্ঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক সুর শোনা গেছে। আরএসএস-এর শীর্ষস্থানীয় প্রচারক সুনীল আম্বেকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি মন্তব্য করেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত আশাবাদী এবং দেশের মূল ধারার ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। ফলে এমন একটি রসাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দেশের রাজনৈতিক বা সামাজিক স্থিতিশীলতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ডিজিটাল যুগে তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের এই অভিনব ও রসাত্মক মাধ্যমটি ভারতের সমাজবিজ্ঞানীদেরও নজর কেড়েছে। মূলধারার রাজনীতিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে কীভাবে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিকল্প শক্তি তৈরি করা যায়, সিজেপির উত্থান তারই একটি বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

