নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদে হামলা, ভাঙচুর এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মারাত্মক অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে রটারডামের মেভলানা মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির মুসলিম কমিউনিটি।
নেদারল্যান্ডস ইসলামিক ফাউন্ডেশন (আইএসএন) শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রায় ছয়জন অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীর একটি দল মেভলানা মসজিদে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা মসজিদের একটি সুদৃশ্য মোজাইক দেয়াল ভাঙচুর করে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। শুধু তাই নয়, তারা মসজিদ ভবন লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে এবং পবিত্র উপাসনালয়ের সামনের অংশে মূত্রত্যাগ করে চরম অবমাননাকর ও অশোভন আচরণ প্রদর্শন করে।
আইএসএন-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এবং বারবার স্থানীয় পুলিশকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা এই সহিংস ঘটনাকে এমন কোনো বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেননি, যাতে তাৎক্ষণিক বা কঠোর আইনগত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। পুলিশের এমন উদাসীন মূল্যায়ন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
নেদারল্যান্ডসে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন মসজিদ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসল্লিরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতা ও মনস্তাত্ত্বিক হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। পুলিশের এই বিলম্বিত সাড়াদান ভবিষ্যতে উগ্রবাদীদের আরও বেশি উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই জঘন্য হামলার ঘটনায় মেভলানা মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে রটারডাম পুলিশ বিভাগে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে, বিষয়টিকে সাধারণ কোনো অপরাধ হিসেবে না দেখে উগ্রবাদী বা বর্ণবাদী হামলা হিসেবে ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে’ তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

