প্রধান খবর

শিশুর পা মোচড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি পলাতক, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৩

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মোচড় দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে ঘটে। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, পাঁচ দিন আগের একটি পারিবারিক ঘটনার ভিডিও গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই মাঠে নামে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যৌথ পরিবারের অভ্যন্তরীণ কলহের জেরে অভিযুক্ত লতা বেগম রাগের বশে ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। ওই সময় শিশুটির মা গোপনে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমের কাছে পাঠান। তবে এই সংবেদনশীল ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে, ভাইরাল ভিডিওতে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বাস্তব বক্তব্যের চরম অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার দাবির কোনো সত্যতা মেলেনি। শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি পারিবারিকভাবে তিন দিন আগেই মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। এই ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য যুক্ত করে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

পারিবারিকভাবে মীমাংসার দাবি করা হলেও, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ সময় তদন্তের সহায়ক উপাদান হিসেবে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *