ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ত্যাগের মহিমায় দেশজুড়ে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সকালে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় শুরু হয় পশু কোরবানির কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত ও বণ্টনের ব্যস্ততা দেখা গেছে। একই চিত্র দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিরাজ করেছে।
ঈদ উপলক্ষ্যে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার সর্বজনীন আহ্বান। তিনি উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য ও বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিমকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে পরাভূত করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য। তিনি আরও বলেন, তাকওয়ার পথনির্দেশনা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা, যা মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত করে।
প্রধানমন্ত্রী যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে, তাদের প্রতি অসচ্ছল মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তার বিষয়েও সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব, তাই নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

