রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গোপন ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে ভয়ংকর ও অপ্রচলিত মাদক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে কেটামিন, ইয়াবা, কুশ এবং ভেজাল মদ তৈরির অন্তত চারটি চক্র শনাক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব চক্র আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দেশে ও বিদেশে মাদক সরবরাহ করছিল। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একটি গোপন ল্যাব থেকে বিপুল পরিমাণ কেটামিন ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত কেটামিনকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোকেন সদৃশ পাউডারে রূপান্তর করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এছাড়া ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের মাধ্যমে এসব মাদক বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো।
অন্যদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির একটি কারখানা উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানান, ওষুধ প্রস্তুতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ভেজাল রাসায়নিক মিশিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উৎপাদন করতেন। একইভাবে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ‘কুশ’ নামে পরিচিত উন্নতমানের মারিজুয়ানা চাষের একটি প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাবেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক চক্রের সম্পৃক্ততায় মাদক উৎপাদন ও পাচার আরও সংগঠিত হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

