প্রধান খবর

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ : আদালত

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক ঐতিহাসিক রায়ে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জুলিয়া কোবিক জানান, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জাতীয়তাকে নেতিবাচক সূচক হিসেবে গণ্য করে তাদের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে বিশ্বের ৩৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের (পিআর) আবেদনগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করতে মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নীতি গ্রহণ করে। সেখানে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন মূল্যায়নের সময় তাদের ‘জাতীয়তা’ একটি প্রধান নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত এই নীতিটিকেই চ্যালেঞ্জ করে ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়াসহ ২০টি দেশের প্রায় ২০০ জন নাগরিক বোস্টনের ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বিচারক জুলিয়া কোবিক তার রায়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পার্লামেন্ট বা কংগ্রেস যে নির্দেশনা দিয়েছে, ইউএসসিআইএস-এর এই স্থগিতাদেশ তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আদালত ২০০ জন বাদীর মধ্যে ২২ জনের আবেদন অবিলম্বে পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন, যারা এই নীতির কারণে ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার বিস্তারিত প্রমাণ দাখিল করেছিলেন। বাকি ১৭৮ জন বাদীর ক্ষেত্রেও এই আদেশ কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ইউএসসিআইএস ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল ও অসম্ভব করে তুলতে চেয়েছিল। অথচ মার্কিন কংগ্রেস কখনোই এই ধরণের বৈষম্যমূলক নীতির অনুমোদন দেয়নি।”

অন্যদিকে, ফেডারেল আদালতের এই রায়ের পর বড় ধরণের চাপে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সাথে যোগাযোগ করলে কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন দেখা দিল। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই ধরণের মামলার পথ প্রশস্ত করতে পারে এবং হাজার হাজার অভিবাসীর ঝুলে থাকা আবেদনের ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *