দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন যাত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে পিসিগা-ওরুরো আন্তর্জাতিক সড়কের ভিলা চালাকোলো নামক এলাকার কাছে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। যাত্রীবাহী বাসটি যখন ভিলা চালাকোলো অতিক্রম করছিল, তখন হঠাৎ করে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে উল্টে যায়। পিসিগা-ওরুরো সড়কটি বলিভিয়া এবং পার্শ্ববর্তী দেশ চিলির মধ্যে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী যাতায়াতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত রুট হিসেবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় তাদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ২২ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বাসের চালক একজন ২৪ বছর বয়সী যুবক। দুর্ঘটনার পরপরই তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো প্রকার মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনায় চালক মস্তিষ্কে মাঝারি মাত্রার আঘাত (Traumatic Brain Injury) পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, বাসটির গতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এছাড়া দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ক্লান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবও এই দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শুরু করেছে।
পিসিগা-ওরুরো সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। বলিভিয়ার এই পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে আঁকাবাঁকা ও দুর্গম রাস্তা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও চালকদের অসতর্কতা এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রাণহানির ঘটনা কমছে না।
বলিভিয়া সরকার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দেশটির সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে দীর্ঘ পাল্লার চালকদের জন্য বিশ্রামের সময়সীমা এবং বাসের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বলিভিয়ার জনমনে ব্যাপক শোক এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

