বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম ও ইমরান হাশমি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘হক’ (Haqq) এখন টক অফ দ্য টাউন। ৭০ দশকের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক সুপর্ণ এস ভার্মা জানিয়েছেন, এই সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যকে বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল করতে ইয়ামি গৌতম কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।
পরিচালক সুপর্ণ জানান, ইয়ামি গৌতম তার অভিনীত ‘সাজিয়া বানু’ চরিত্রটির গভীরতা অনুধাবনের জন্য ব্যাপক পড়াশোনা করেছেন। ৭০ দশকের একজন লড়াকু মুসলিম নারীর জীবনযাত্রা এবং ধর্মীয় ও আইনি প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। পরিচালক বলেন, “আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে ইসলামি আইনকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। নিজের চরিত্রটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গভীরভাবে পর্দায় তুলে ধরতে ইয়ামি পবিত্র কোরআনও শিখেছিলেন।”
অভিনেত্রীর এই নিষ্ঠা সিনেমাটিকেবাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে একটি শৈল্পিক দলিলে রূপান্তরিত করেছে। ভুল তথ্যের ভিড়ে সিনেমাটি যেন সঠিক যুক্তির কথা বলে, সেজন্যই এই নিবিড় গবেষণার পথ বেছে নিয়েছিলেন নির্মাতারা।
‘হক’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে সাজিয়া নামের এক সাহসী নারীকে কেন্দ্র করে। যখন তার স্বামী অন্য একজনকে বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তখন সাজিয়া দমে না গিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন। লিঙ্গ বৈষম্য, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং আইনি অধিকারের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়গুলো এই ছবিতে বলিষ্ঠভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। ইয়ামি গৌতমের শক্তিশালী অভিনয় সাজিয়ার সেই সংগ্রামকে দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ‘হক’ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। বড় পর্দায় সাফল্যের পর ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত স্ট্রিমিং সাইট নেটফ্লিক্সে সিনেমাটি দর্শকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে।
ইমরান হাশমির পরিমিত অভিনয় এবং ইয়ামি গৌতমের রূপান্তর—সব মিলিয়ে ‘হক’ সিনেমাটি বলিউডে অর্থবহ চলচ্চিত্রের এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

