বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান ‘এয়ারফোর্স টু’-তে চড়ে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি পাকিস্তানে অবতরণ করেন।
মার্কিন এই প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের পাশাপাশি রয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রতিনিধিদলটির যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি এই দলটিকে আলোচনার বিষয়ে অত্যন্ত “পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা” দিয়েছেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদল পৌঁছানোর আগেই ৭১ সদস্যের একটি বিশাল বহর নিয়ে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন ইরানি আলোচকরা। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা। প্রতিনিধিদলের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমাদিয়ান। এছাড়াও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এই সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি কয়েক দশকের শীতল সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা—এই দুই প্রধান ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
পাকিস্তানের কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইসলামাবাদে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বশান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

