প্রধান খবর

তনু হত্যাকাণ্ড: ৩ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের

দীর্ঘ ১০ বছরের প্রতীক্ষা আর বিচারহীনতার গ্লানি মুছে সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী তনু হত্যার এক দশক পর তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (০৬ এপ্রিল, ২০২৬) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এই আদেশ প্রদান করেন। তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত হয়ে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই নির্দেশনা আসে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ওই তিন ব্যক্তির পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা প্রত্যেকেই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তনুর ব্যবহৃত পোশাক ও সংগৃহীত আলামত থেকে আগেই তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশের ফলে এখন সেই প্রোফাইলের সঙ্গে এই তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচিং করার আইনি পথ সুগম হলো।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ভেতর একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের নিকটবর্তী একটি জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে ময়নাতদন্তে অসংগতি এবং তদন্তের ধীরগতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তনুর পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা। দীর্ঘ ১০ বছর পর আদালতের এই কঠোর নির্দেশনা তনুর পরিবারকে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখাচ্ছে। আদালত মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে তদন্তের সামগ্রিক অগ্রগতি পুনরায় প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *