মরণঘাতী জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) এবং র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) সরবরাহে দেশে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সরকারি হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে গত কয়েক মাস ধরে এই ভ্যাকসিনের কোনো মজুত নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় গুদামে সরবরাহ না থাকায় সাধারণ রোগীদের চড়া দামে বাজার থেকে টিকা কিনে প্রাণ বাঁচাতে হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে মাত্র দুটিতে ভ্যাকসিনের সামান্য মজুত রয়েছে। অন্যদিকে পাবনার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলাটিতে গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই টিকার সরকারি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বগুড়াসহ অন্যান্য জেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে সামান্য কিছু টিকা কেনা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
বগুড়ার মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ। র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অনিবার্য এবং এই রোগের কোনো উন্নত চিকিৎসা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিতে হবে। দেরি হলে জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুধু বগুড়ার মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালেই প্রতি মাসে গড়ে ৮ হাজার মানুষ জলাতঙ্কের চিকিৎসা নিতে আসেন। আগে এই টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হলেও, এখন রোগীদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ১ মিলিলিটার এআরভি ভ্যাকসিনের দাম পড়ছে ৫০০ টাকার বেশি এবং ৫ মিলিলিটার আরআইজি কিনতে গুণতে হচ্ছে ৯০০ টাকারও বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষ জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকারি উদ্যোগে ২০২০ সালের পর মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ কমে এসেছিল, তবে বর্তমানের এই দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ সংকট সেই অর্জনকে ধূলিসাৎ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জরুরি ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রগুলোতে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের প্রাণের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

