ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে অচিরেই অত্যন্ত বিধ্বংসী ও ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সোমবার ভোর থেকে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ অপারেশনাল সামরিক কমান্ড ইউনিট ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ওপর পরবর্তী আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের জবাব হবে বহুগুণ শক্তিশালী এবং ব্যাপক।
বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরে তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্টেশনসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বিমানবাহিনী। এই হামলার ফলে তেহরানে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তেহরান আর কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে যাবে। হামলার পরপরই পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানকে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে তেহরান নতি স্বীকার না করলে ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই চরম আল্টিমেটাম এবং একই দিনে তেহরানে বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সমন্বিত চাপ ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হলেও তেহরানের পাল্টা হুমকির ফলে সংঘাতের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের ফল হবে সুদূরপ্রসারী। এখন মঙ্গলবার ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইরান কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নাকি সংঘাতের পথ বেছে নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

