প্রধান খবর

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানে অংশ নেবে না ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তারের আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলের নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান হলে তাতে অংশ নেবে না তেল আবিব-এমন ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধের বাড়তি চাপ ও কৌশলগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর বলছে, মার্কিন বাহিনী ইরানে কোনও স্থল অভিযান চালালে তাতে ইসরায়েল অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে, তখন তেল আবিবের এই অবস্থান সামনে এসেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ গত রোববার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ‘ইসরায়েলি সেনারা সেটাতে অংশ নেবে না’, অর্থাৎ এ ধরনের অভিযান পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপরই ছেড়ে দেয়া হবে।

এই প্রতিবেদন এমন সময়ে এলো, যখন ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। পেন্টাগন সীমিত অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন কি না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন সেনারা ইরানে প্রবেশ করলে তারা ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়বে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলবাহিনী পাঠায়, তাহলে মার্কিন সেনাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হবে’ বলে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, ইরানে স্থল অভিযান চালানো হলে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো বড় কৌশলগত ভুল হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ বলেন, ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ দেখিয়েছে, কীভাবে আকাশযুদ্ধ ধীরে ধীরে স্থলযুদ্ধে পরিণত হয়।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধেও একই ধরনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে এবং আগামী ১০ দিন পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করবে।

এদিকে চ্যানেল ১২-এর এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও যুদ্ধবিরোধী মহলে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল নিজে স্থল যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল যুদ্ধে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

সমালোচকেরা বলছেন, যে যুদ্ধ ইসরায়েলের স্বার্থে শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তার ঝুঁকি এখন মার্কিন সেনাদের কাঁধে চাপানো হচ্ছে। একজন প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তার চেয়ে আমরা ইসরায়েলেই স্থল অভিযান চালিয়ে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে নেই এবং আমাদের অর্থ ফিরিয়ে আনি না কেন?’

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খারাপভাবে এগিয়ে গেলে তা বিশ্বে মার্কিন শক্তির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আর কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হতে পারে। কারণ ইসরায়েলকে কৌশলগত অংশীদার মনে করার কারণেই এই সংঘাতের মতো ব্যয়বহুল ও জটিল যুদ্ধে টেনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *