ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তেলের জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল এলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল লিটারপ্রতি ১১৬ টাকা ও অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা হলেও বাস্তবে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ৫০-৬০ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে, এতে দুইজন স্টাফ আহত হন। একই রাতে বিসিক এলাকার আরেক স্টেশনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অভিযোগ ছিল-মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া শহরের আরেকটি স্টেশনে তেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি ধারণে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।
অন্যদিকে পাম্পে তেল না মিললেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ ভোক্তারা।
বাজারে তেলের দাম (প্রতি লিটার):
- রুহিয়া রামনাথ হাট: ২৭০ টাকা
- সেনিহারী বাজার: ৩৫০ টাকা
- ঢোলারহাট: ৩১০ টাকা
- ফাড়াবাড়ি বাজার: ২৫০ টাকা
- রাণীশংকৈল চেকপোস্ট: ২৩৩ টাকা
- ধনিরহাট: ৩০০ টাকা
- ভরনিয়া বাজার: ৩২০ টাকা
- বাদামবাজার: ২৮০ টাকা
- সনগাঁও বাজার: ৩০০ টাকা
- লাহিড়ী বাজার: ২৬০ টাকা
- কাচকালী বাজার: ৩০০ টাকা
- পল্লীবিদ্যুৎ বাজার: ২৮০ টাকা
- কাউন্সিল বাজার: ২৫০ টাকা
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সামান্য সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন চালকরা তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আর বিভিন্ন স্থানে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।

