প্রধান খবর

ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নদে ফেলে নৃশংস হত্যা

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক কন্যাসন্তানকে দলবদ্ধ (সংঘবদ্ধ) ধর্ষণের পর জীবিত অবস্থায় কংস নদে ফেলে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজন পুলিশের কাছে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে নিয়ে চার তরুণ মিলে এই অমানুষিক নির্যাতন চালায় বলে জানা গেছে।

পুলিশের হাতে আটক হওয়া তরুণেরা হলো—ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসান (১৯)। এই ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় বাসিন্দারা কংস নদের একটি বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ শিশুটির বলে শনাক্ত করেন এবং নদের পানি থেকে উদ্ধার করেন।

নৃশংসতার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায় রাতেই, যখন শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন তার স্পর্শকাতর স্থানে গভীর ক্ষত ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পান নারীরা। ওই অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার স্পষ্ট আলামত পাওয়ায় দ্রুত অনুসন্ধানে নামে। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মারুফ, রাকিব ও আরিফকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পৈশাচিক ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা ও গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চারজন মিলেই শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। তবে বাকি দুজন এখনও মুখ খোলেনি। এই ঘটনায় মোট চারজন জড়িত ছিল; পলাতক অপর আসামিকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে ছোট মেয়েটি দোকান থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। সেই সুযোগে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে চার তরুণ তাকে ফুসলিয়ে কংস নদের পাড়ে একটি নির্জন জঙ্গলের মতো জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে এবং শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে, নিজেদের অপরাধ লুকাতে জীবিত অবস্থাতেই তাকে কংস নদের পানিতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকেরা। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *