মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলি লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি-র জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে এই দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রেস টিভির তথ্যমতে, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে সাধারণ নাগরিক সবাই শোকসভায় অংশ নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
লারিজানির হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই নতুন করে আরেকটি হত্যার দাবি সামনে আসে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, মঙ্গলবার রাতে হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন।
তবে তেহরান এখনো এই দাবি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে দু’দিনে ইরানের তিন শীর্ষ নিরাপত্তা নেতাকে হত্যার ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় লারিজানি ও সোলেইমানি নিহত হন। এই ধারাবাহিক হামলা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; তাই এসব হত্যাকাণ্ড নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানান, নিহত ইসমাইল খতিবকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ফলে এই হত্যাকাণ্ড ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

