সাবমেরিন থেকে দুই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এবার সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।

পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং কৌশলগত সামরিক অভিযান পরিচালনায় নৌবাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’ মডেলের। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশটির স্থলভাগ থেকে যে ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছিল, এটিও একই প্রযুক্তির। উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে আয়োজিত এই পরীক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাটির দাবি, এই সামরিক মহড়ার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখনো পুরোপুরি কার্যকর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন না থাকলেও, এ ধরনের প্রযুক্তি অর্জন ও সাবমেরিন নির্মাণ বহর তৈরি করা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের অন্যতম প্রধান সামরিক অগ্রাধিকার। তিনি নিজে এসব কৌশলগত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত তদারকি করছেন।

এর আগে গত বছর সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার একটি পারমাণবিক সাবমেরিন সংক্রান্ত চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন কিম জং উন। সে সময় প্রকাশিত ছবিতে একটি ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়, যা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সম্প্রতি সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এর কয়েক দিন আগেই পূর্ব উপকূলে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং গত ৩ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম একটি হাইপারসনিক মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পরদিনই পিয়ংইয়ংয়ের এই পাল্টা পদক্ষেপ তাদের কঠোর সামরিক মনোভাবকেই ইঙ্গিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *