পরকীয়া সংক্রান্ত জটিলতা ও দ্বন্দ্বের জেরে নিজের সাত বছর বয়সী শিশুসন্তান ইউসুফকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন শিশুটির মা রিনি বেগম। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু ইউসুফ তার মা রিনি বেগম ও সৎবাবা বাসের হেলপার উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে সোনাতলার বড় বালুয়া এলাকায় বসবাস করত। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ উজ্জ্বল হোসেনের ঔরসজাত সন্তান ছিল না। রিনি বেগমের প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে উজ্জ্বল হোসেনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে রিনি বেগম বিবাহবহির্ভূত বা পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন ছিল।
গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির মা নিজেই তার দুই পা চেপে ধরে রেখেছিলেন এবং পরে নিথর দেহ ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান। তবে কীভাবে শিশুটিকে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এর আগে শিশুটির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তাদের বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি এসেছিলেন এবং সেই দিন থেকেই শিশুটির কোনো সন্ধান মিলছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শিশুটির বাবা সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বালুয়াহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও নানা পণ্য সরবরাহ করে সাহায্য করত ছোট্ট ইউসুফ। বিনিময়ে দোকানিরা তাকে সামান্য কিছু টাকা দিতেন, যার ফলে সে এলাকার সবার কাছে বেশ পরিচিত ও আদরের ছিল।
একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় যেখানে তার পরিবার, সেখানে খোদ মায়ের এমন নৃশংসতায় হতবাক এলাকাবাসী। তারা এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, শিশু ইউসুফকে হত্যার ঘটনায় তার মা রিনি বেগম আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুত স্পষ্ট করা হবে।

