খুলনার রূপসা উপজেলায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির মুখে থানা পুলিশের কাছে আকুতি জানিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক অসহায় বাবার। নিজ সন্তানকে নৃশংসভাবে হারানোর ঠিক ৫০ দিনের মাথায় প্রতিপক্ষের বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারাতে হলো তাকেও। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নিহত হয়েছেন মো. আক্তার ঢালী নামের ওই ব্যক্তি। সোমবার সন্ধ্যায় আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় আচমকা গুলির শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট দুর্জনীমহলের শহীদের মোড় এলাকায় আক্তার ঢালীর ২৫ বছর বয়সী ছেলে জয় ঢালীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিল।
হুমকির মুখে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় লিখিত আবেদন করেন আক্তার ঢালী, যা পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর থানায় জিডি হিসেবে নথিভুক্ত হয়। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, জামিনে মুক্ত হওয়া আসামিরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। জিডিতে আসামিদের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, হত্যা মামলার আসামিরা এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন রক্ষা করতে পারলেন না এই বাবা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতেই আক্তার ঢালী প্রাণ হারিয়েছেন। কী উদ্দেশ্যে এবং কারা এই নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে, তা অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

