প্রধান খবর

কিয়েভের স্কুলে ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি স্কুলে ভোরে রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে সংঘটিত এই ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথে আক্রমণ চালানো ড্রোনটি বিদ্যালয়টির তৃতীয় তলায় সরাসরি আঘাত হানলে নিমিষেই পুরো ভবনে আগুন ধরে যায়। বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে আশপাশের জানালার কাচ। ঘটনার পরপরই কিয়েভের ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করে। বিদ্যালয়ের পরিচালক ভ্যালেন্তিনা চোর্না ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে শতাধিক শিশু উপস্থিত ছিল।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, একই দিনে কিয়েভের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সাউদার্ন ব্রিজ’-এও একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্থানীয় মেয়র ভিতালি ক্লিচকো নিশ্চিত করেছেন যে, দুপুরের দিকে দুটি এবং রাতে আরও একটি ড্রোন সেতুটিতে আঘাত হানে। এতে সেতুর মূল সাপোর্ট, চলাচলের সড়ক এবং ওপর দিয়ে অতিক্রম করা মেট্রো রেলের সুরক্ষাকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুরক্ষার স্বার্থে ওই পথ দিয়ে মেট্রো ও যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কিয়েভের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে অচল করে দিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার আক্রমণ তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া এখন নতুন প্রযুক্তির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে, যা সাধারণ ড্রোনের চেয়ে অধিক দ্রুতগতিতে ও উঁচুতে উড়তে সক্ষম। ফলে ইউক্রেনের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে নিমিষে ধ্বংস করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সপ্তাহের অন্যান্য দিনে কিয়েভের নিউক্লিয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসেও ড্রোন আঘাত হানে। গবেষণাগারটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এখনো স্বাভাবিক থাকলেও একাডেমিতে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন।

এদিকে ইউক্রেনের ওদেসা শহরের একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে হামলা এবং সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন বিস্ফোরণে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো। অন্যদিকে শীতের আগে প্রতিপক্ষের শক্ত অবস্থান অচল করতে উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি খাতকে নিশানা বানিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *