ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা রুখতে এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দেশটিতে ব্যাপকভিত্তিক সামরিক অভিযান চালানোর সুদূরপ্রসারী প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে স্থল ও বিমানপথে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে। রিয়াদের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি স্থলবাহিনী মূল অভিযানে নেতৃত্ব দেবে, যা সৌদি বিমান হামলার সরাসরি সহায়তায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালির মতো ভূ-রাজনৈতিক ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হুতিরা নিয়ন্ত্রণে নিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল রূপ ধারণ করে। লোহিত সাগরের এই দক্ষিণ প্রবেশদ্বারটি পুনঃদখলে রিয়াদ দুটি সম্ভাব্য কৌশল বিবেচনা করছে-একটি হলো উপকূলীয় অঞ্চলে সীমিত পরিসরের কৌশলগত আক্রমণ এবং অপরটি হলো আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশে একযোগে বহু-ফ্রন্টবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ অভিযান। প্রয়োজনে এ অভিযানে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
এই বৃহৎ সামরিক অভিযানে সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মিত্ররা বিভিন্নভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত ভূ-উপগ্রহীয় গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া তুরস্ক ও পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি পাঠিয়েছে এবং দেশটির সামরিক পরামর্শক দল সৌদি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সাধনে নিয়োজিত রয়েছে। একই সাথে, ফ্রান্সও কৌশলগত বন্দর সুরক্ষায় সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
বাণিজ্যিক নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং নিজস্ব জাতীয় তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে রিয়াদ। বিশ্লেষকদের মতে, বাব এল-মান্দেব এলাকায় হুতিদের আধিপত্য বজায় থাকা অবস্থায় কোনো সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা সফল হতে পারে না। তবে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করে স্থানীয় ইয়েমেনি প্রক্সি বাহিনীগুলোকে কতটা সুসংগঠিতভাবে মাঠে পরিচালনা করা যায়, তার ওপরই এই অভিযানের মূল সফলতা নির্ভর করছে।

