প্রধান খবর

সিডনিতে ‘এথনিক বাজার অস্ট্রেলিয়া’র দুর্গাপূজা প্রদর্শনী

প্রবাসের বুকে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ফ্যাশন ও নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল ‘এথনিক বাজার অস্ট্রেলিয়া’ আয়োজিত দুর্গাপূজা প্রদর্শনী ২০২৬। ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দিনব্যাপী অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৫০০-এরও বেশি দর্শনার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এক অনাবিল উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যের ধারাবাহিক অনুশীলন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের অগ্রযাত্রায় এই প্রদর্শনী এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলা এই প্রদর্শনীতে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী নান্দনিক পোশাক, দৃষ্টিনন্দন অলংকার, বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম, স্মারক উপহারসামগ্রী এবং জিভে জল আনা খাঁটি দেশীয় খাবারের সমাহার নিয়ে পসরা সাজিয়েছিলেন বিভিন্ন স্তরের ক্ষুদ্র ও উদীয়মান নারী উদ্যোক্তারা। সব বয়সের ও বহুসাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের পদচারণায় পুরো প্রাঙ্গণটি যেন এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো। দী মুখার্জীর সফল দিকনির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে অনুষ্ঠিত এই ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করেন মডেল শাওলি, রীনা, পিয়ালি, সুপর্ণা ও শ্রেয়া। তাঁদের মার্জিত উপস্থাপনা ও নান্দনিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মঞ্চে ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও আধুনিক ফ্যাশনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটে ওঠে, যা উপস্থিত সর্বস্তরের দর্শককে বিমোহিত করে।

বর্ণাঢ্য এই সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক প্রদর্শনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যারামাটার এমপি ডোনা ডেভিস। তিনি প্রদর্শনীর প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন এবং নারী পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে সার্বিক সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাঁর উপস্থিতি গোটা আয়োজনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

সংগঠনের মূল ভাবনার কথা তুলে ধরে ‘এথনিক বাজার অস্ট্রেলিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা উর্মি তালুকদার বলেন, “এই প্রদর্শনী কেবল কেনাকাটার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপনের একটি বড় মঞ্চ। যেসব নারী উদ্যোক্তা নিজেদের মেধা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে প্রবাসের মাটিতে জীবন্ত রেখেছেন, তাঁদের এগিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।” আয়োজনের অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “চলতি বছরের অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সকল বিক্রেতা, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।”

আয়োজক সূত্র জানায়, এথনিক বাজার অস্ট্রেলিয়ার মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসে নিজস্ব সাংস্কৃতিক শেকড়কে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিশেষ করে নারীদের জন্য একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এই প্রদর্শনীর সাফল্য থেকে প্রেরণা নিয়ে তারা ২০১৭ সালের দুর্গাপূজা প্রদর্শনী আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *