কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, রাজনৈতিক ইতিহাস প্রমাণ করে জনরোষ থেকে বাঁচতে পলায়নকারী কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট শক্তি কখনো পুনরুত্থান ঘটাতে পারেনি, এরাও কোনোদিন ফিরে আসতে পারবে না।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশজুড়ে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তের প্রতিবাদে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে আমান উল্লাহ আমান বলেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো এখন বিদেশে পালিয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন ধরনের অসার কথা ও হুমকি দিচ্ছে। তবে জেনে রাখা ভালো, ফাঁকা বুলি বা খালি কথায় আর রাজনীতিতে ফেরা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দেশ যখন ঘুরে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের পথে ধাবিত হচ্ছে, ঠিক তখনই পালিয়ে যাওয়া পদাঘাতপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট চক্র পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা বিদেশে অবস্থান নিয়ে ফেরায় হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি একটি কুচক্রী মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে আমান উল্লাহ আমান বলেন, “যারা নিরপরাধ হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, সেই খুনিদের কোনো স্থান বাংলাদেশে হতে পারে না। এই গণহত্যাকারীদের যেখানেই দেখা যাবে, তাৎক্ষণিকভাবে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করুন। তবে কোনো অবস্থাতেই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।”
আমরা যেভাবে অতীতে রাজপথে থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলন চালিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই রাজপথে থেকেই যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

