যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো রক্তপিপাসু শত্রুদের বিরুদ্ধে ইরান সম্পূর্ণ অবিচল ও শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নানা অপরাধ ও আগ্রাসন বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমকে সবচেয়ে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো প্রাণঘাতী বোমা হামলা নিয়ে লেখা ‘খুনাবেহ মিনাব’ (মিনাবের রক্তাক্ত জলরাশি) বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বমঞ্চে সত্য তুলে ধরার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোহাজেরানি বলেন, চলচ্চিত্র, নাটক, উপন্যাস, কবিতা ও চিত্রকলার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্ষত ও সাধারণ মানুষের ট্র্যাজেডি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, “শোকগ্রস্ত হলেও অবিচল ইরান আজ বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে রক্তপিপাসু শত্রুদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।”
দেশ রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, গত চার দশকে ইরান বহুগুণ শহিদের আত্মত্যাগ দেখেছে এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়েই দুই লক্ষাধিক মানুষ দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবাহ স্কুলে মার্কিন বিমান হামলার হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি স্মরণ করে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, যুদ্ধের শিকার নিষ্পাপ শিশুদের যন্ত্রণা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য সাহিত্যিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘খুনাবেহ মিনাব’ গ্রন্থটির লেখকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই সরকারি মুখপাত্র। বইটি রচনার উদ্দেশ্যে লেখক টানা ৪০ দিন মিনাবে অবস্থান করে এবং শহিদদের কবরস্থানে সময় কাটিয়ে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করেছেন। মোহাজেরানি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিল্প ও সাহিত্যের এই শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ মিনাবের মতো নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং বিশ্বজনমত গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

