ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক বিমানে হামলায় সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পরিচালিত এই প্রাণঘাতী হামলায় হামাস কমান্ডারের নিহতের বিষয়টি দুই পক্ষের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। হামাসের সামরিক শাখা জানিয়েছে, নিহত এই কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার গাজার ইজ আদ-দিন আল-বেইক এলাকায় উক্ত হামাস কমান্ডারের অবস্থান নিশ্চিত করে নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নতুন যোদ্ধা নিয়োগ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক সুপরিকল্পিত হামলার রূপরেখা তৈরি করছিলেন।
একই দিনে গাজার বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক বিমান হামলায় আরও বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে গাজা শহরের নাসর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বোমারু বিমান আঘাত হানে। সেখানে গুরুতর আহতদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান। এছাড়া একই দিন বিকেলে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি চিকিৎসাক্লিনিকের সন্নিকটে চালানো অন্য এক হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারান।
ইসরায়েলি সামরিক সদর দফতর দাবি করেছে, চলমান সামরিক অভিযানে চলতি মাসেই হামাসের অন্তত ২০ জন শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতা ও প্রভাবশালী কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ অক্টোবরের অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে সরাসরি জড়িত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন ও পুনরায় হামলার অজুহাত সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখান করেছে হামাস। সংগঠনটি পাল্টা দাবি করেছে, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অবাস্তব অজুহাত দাঁড় করিয়ে গাজায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে ইসরায়েল।

