দামি আইফোনের প্রতি চরম লোভ থেকে এক সপ্তাহ আগেই আঁকা হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার নির্মম ছক। ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও বানানোর ফাঁদে ফেলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় নির্জন পাহাড়ী এলাকায়। আদালতের দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এই তথ্য।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
আদালতের স্বীকারোক্তিতে আসামিরা জানায়, বিগত পাঁচ-ছয় মাস ধরে টিকটক তৈরি ও বাইকে ঘুরে ছবি তোলার সুবাদে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় গড়ে ওঠে। অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামী আইফোনটি হস্তগত করতেই আসামিরা তাকে হত্যার নিখুঁত পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার আগের শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তুহিন ও তার এক সহযোগী বৈঠক করে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
হত্যার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর টিকটকে বার্তার মাধ্যমে অপ্রতিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পরদিন জুমার নামাজের পর ছবি তোলার কথা বলে তাকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম প্রতিবাদ করে এবং ফোন ফেরত চায়। এতে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৩ বছরের এক কিশোরের সঙ্গে বয়সে বেশ বড় তরুণদের এই মেলামেশাকে একটি ‘অসম বন্ধুত্ব’ বলা যায়, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড় থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

