অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’কে ১২১ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম অর্থদণ্ড বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) অনুসন্ধানে ব্যাংকটির সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ, গ্রাহকের তথ্য যাচাই এবং সময়মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুতর ঘাটতি পাওয়া যায়। সংস্থাটির দাবি, ব্যাংকটি নির্ধারিত সময়ে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অর্থপাচার প্রতিরোধব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ব্যাংকটিকে পৃথকভাবে ৭৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওসিসি। তবে এ অর্থ ফিনসেনের জরিমানার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান, রাশিয়া ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের সমঝোতা ঘোষণা করেছে অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওফএসি)।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন মেনে চলার ব্যর্থতা পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা ৪৭৫টি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

