অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে একদিনেই এক হাজারের বেশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অনুপ্রবেশ করেছে। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কোট’-এর দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েলি পুলিশি পাহারায় এই বৃহৎ দলটিকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, মোট এক হাজার ১৪৩ জন বসতি স্থাপনকারী আল-আকসায় এই বিতর্কিত অনুপ্রবেশ ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে ইসরায়েলি পুলিশ ক্রমান্বয়ে ‘মাগরিবি গেট’ দিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের ভেতরে নিয়ে যায়। প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে তারা বেশ কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা পালন করে। এছাড়া, মসজিদ চত্বরে তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্ভিদজাত উৎসর্গ সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়। ফিলিস্তিনিদের মতে, পবিত্র এই স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাস কো) চরম লঙ্ঘন। চলতি মাস জুড়েই মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ ও উসকানিমূলক ধর্মীয় আচার পালনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ নেতা খালেদ মেশাল চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের এই ধরনের মোড়ে মোড়ে নেওয়া পদক্ষেপ মূলত ওই প্রথম কেবলা ও ঐতিহাসিক চত্বরের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও একক আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ষড়যন্ত্রমূলক পথ তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অমুসলিমদের প্রার্থনা করা ঐতিহাসিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি পুলিশি প্রহরায় কট্টরপন্থী ইহুদিরা সেখানে প্রবেশ করে পরিবেশ ঘোলাটে করে তুলছে, যাকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

