সামরিক চাপ কিংবা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কোনো স্বাধীন দেশের জনগণকে কখনোই আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বার্ষিক অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে তেহরান ছাড়ার প্রাক্কালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশ্বমঞ্চে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’-এর মূল নীতি, অবস্থান ও কূটনৈতিক মনোভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মুহূর্তে পেজেশকিয়ান জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে হওয়া দীর্ঘদিনের অবিচার, সংঘটিত নানা আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের দেওয়া চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরবেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অতীতে বেশ কয়েকবার বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছি এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরো বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে যে, কীভাবে পশ্চিমারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলো স্রেফ একতরফাভাবে লঙ্ঘন করেছে।”
পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো জাতিকে নতজানু করা যায় না। গাজা, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরানে বর্তমানে যা ঘটছে, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে প্রকৃত অন্যায়ের চিত্র উন্মোচন করে দিয়েছে।”
আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিরোধীরা যেকোনো মূল্যে সব কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথ রুদ্ধ করে তেহরানকে চাপে ফেলার চক্রান্ত করছে। তবে সামরিক ও সম্মুখ যুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে তারা এখন বিকল্প ও নোংরা পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শত্রুরা স্থল ও আকাশপথ অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কিছু নির্দিষ্ট গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীকে অপব্যবহার করে ভেতর থেকে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল করতে চাইছে, যাতে আমরা নতিস্বীকার করি। কিন্তু তাদের এ পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

