যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ভবিষ্যতে মসৃণভাবে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে দুই দেশের শীর্ষ নেতার প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে প্রথম এই বৈঠকেই পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে কৌশলগত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের ব্রিটিশ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করতে ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।বর্তমানে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর অন্তর্গত ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চাগোসের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করার ব্রিটিশ উদ্যোগকে সরাসরি ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প তাঁর স্পষ্ট আপত্তি ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চাগোস ইস্যু ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ওপর যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল এবং সেই তাগিদ থেকেই যুক্তরাজ্য এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।
নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংঘাতের অবসান অতি সন্নিকটে।
একই সাথে ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তি না করলে তেহরানকে চরম ‘ধ্বংসের’ মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে একই সাথে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে তাদের আলোচনার টেবিলে ধরে রাখার পুরনো কৌশলই প্রয়োগ করছেন ট্রাম্প।
কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে প্রযুক্তি খাত নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-কে নতুনভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিবুদ্ধিমত্তা হিসেবে অভিহিত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সপ্তাহব্যাপী সাধারণ অধিবেশন চলছে। এতে ভূ-রাজনীতি, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে বিশ্বনেতাদের আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

