জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কঠোর সামরিক সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ৩৭ মিনিটের ভাষণে ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাঁর সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে-তিনি কি ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যাবেন, নাকি দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবেন। নিজের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো সমঝোতা হবে যা তাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিককে দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেব, যাতে তারা আর কখনো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ না পায়?”
নিজেকে শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “অন্যরা যখন কেবল শান্তির কথা বলেছে, আমি তখন তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করেছি।
অন্যরা যখন হুমকি এড়িয়ে গেছে, আমি সেগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি।” চলমান ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ইরান সমঝোতায় আসবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান হয়তো মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে, তবে তাদের বোঝা উচিত এ নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী নন। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভাষণে নিজের সামরিক শক্তিমত্তার প্রচারণা চালিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দেন এবং কমিউনিস্ট শাসিত কিউবা খুব দ্রুত পতনের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া সুমেরু (আর্কটিক) অঞ্চলে দুটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের লক্ষ্যে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ (আইসিসি) বিভিন্ন বিশ্বসংস্থার তীব্র সমালোচনা করে তিনি অন্য দেশগুলোকে এসব প্রতিষ্ঠান বর্জনের আহ্বান জানান। কোনো ধরনের যান্ত্রিক বিঘ্ন ছাড়াই ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে সভাকক্ষে প্রবেশ করে শান্তভাবে পুরো ভাষণ শেষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

