নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা এ দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. এহসানুল হক। তিনি প্রতিষ্ঠানটির অনার্স স্তরের ‘আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগের নন-এমপিওভুক্ত প্রভাষক। জানা গেছে, বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক ওই প্রভাষকের বাড়ি জেলার দুর্গাপুর উপজেলায়।
স্থানী সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট মাদ্রাসার একটি কক্ষে শিক্ষক এহসানুল হক ও এক শিক্ষার্থীর আপত্তিকর অবস্থানের দৃশ্য সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে সেই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এমন গুরুতর নৈতিক স্খলনের পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন জানান, বিষয়টি জানার পর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজার পরামর্শে ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা ভিন্ন কথা জানিয়ে বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রশাসনকে এড়িয়ে কর্তৃপক্ষ কেন কেবল অব্যাহতির পথ বেছে নিয়েছে, তা তারাই ভালো বলতে পারবে।”
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানদের সুশিক্ষা ও নিরাপত্তার আশায় আমরা মাদ্রাসায় পাঠাই। সেখানে শিক্ষকের এমন অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কেবল চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়; আমরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

