প্রধান খবর

ছেলেকে জিম্মি করে মাকে ধর্ষণ : আসামির বাড়িতে হামলা ও আগুন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা চালানোর পর অভিযুক্ত আরও ৩ আসামির বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ জানান, প্রথমে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের টিনের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। অবশ্য হামলার আগেই পরিবারটি সেখান থেকে সরে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত অন্য তিন আসামি—ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়।

অগ্নিসংযোগে চারটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওসি এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পলাতক আসামিদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তার অনুরোধ জানান।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ যুবক পানীয় জল চাওয়ার অজুহাতে ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়িতে ঢোকে। পরে অস্ত্রের মুখে সন্তানসহ ওই নারীকে জিম্মি করে নগদ ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে চম্পট দেয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে শরীফ, আরিফ, ফাহিম, রাজিব ও এনামুলকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। পরিবারটির অভিযোগ, তাদের কাছে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে রাজিব নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *