মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে টানা পাঁচ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। এ বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ ও গিয়াসনগর এবং রাজনগরের গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলায় অভিযুক্ত রাজনগর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কবির (৩০) নামের অপর এক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আহমেদের সাথে মুঠোফোনে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাহেদ কৌশল করে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জে আসামি জুবেল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে সহযোগীদের নিয়ে শিশুটির ওপর রাতভর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় অভিযুক্তরা।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহেদের নিজের বাড়িতে আটকে রেখেও ওই ছাত্রীর ওপর দফায় দফায় অত্যাচার চালানো হয়। ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতনে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় এবং এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। প্রায় ২০ ঘণ্টার টানা অভিযানে পুলিশ অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, “গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামি কবিরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

