অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রত্যন্ত মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে পানির সংকট। দীর্ঘদিন ধরে চরম জলসংকটে থাকা স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জন্য পানির ট্যাংকারই যেখানে জীবনধারণের মূল ভরসা, সেখানেও নেমে এসেছে ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া বিধিনিষেধ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্যাংকার চালকদের পানি পৌঁছে দিতে হলেও সম্প্রতি একের পর এক জব্দ ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় পুরো অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ তীব্র তৃষ্ণায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, হেবরন শহরের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তার আল-কারমেল গ্রামে আচমকা অভিযান চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ সময় তারা আত-তাওয়ানি গ্রাম পরিষদের মালিকানাধীন দুটি পানির ট্যাংকার জব্দ করে। ট্যাংকার দুটি মাসাফের ইয়াত্তার আল-হালাওয়া এলাকার তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে পানি সরবরাহের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অভিযানের সময় রুবহি আহমেদ রাবাই ও কাসেম মোহাম্মদ রাবাই নামের দুই ট্যাংকার চালককেও আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের খিরবাত আল-মারকাজ এলাকার কাছে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাসাফের ইয়াত্তার আল-দাকিকা গ্রামেও ঘটে আরেক বিপত্তি। সেখানে স্থানীয়দের পানি সরবরাহের একমাত্র পাইপলাইনটি কেটে দেওয়া হয়। এতে করে গ্রামের প্রায় ৭০০ বাসিন্দা সরাসরি সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
এর আগে চলতি মাসেই খিরবাত আল-ফাখিত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও পশুর খোঁয়াড় গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পানির ট্যাংক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ধ্বংস করে দেয়। এমনকি স্থানীয়দের পানির একমাত্র কূপটিও মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ‘বি’তসেলেম’-এর তথ্যমতে, খিরবাত আত-তাবান এলাকাতেও ১২টি বসতবাড়ির সাথে ৪টি পানির সিস্টার্ন, ১৫টি পানির ট্যাংক এবং একটি পানিবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে ক্রমাগত এই অভিযান, অবকাঠামো ধ্বংস এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অঞ্চলটিকে সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় সেখানে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

