বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক বালিকাকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন ফয়সাল। এতে শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে গুরুতর জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতেই আহত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মূল অভিযুক্ত ফয়সালকে না পেয়ে তাঁর মা মোসা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধা সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থীর দূরসম্পর্কের মামা। সে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে রাস্তায় চলাচলের সময় উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটি বাড়ির বাইরে টয়লেটে গেলে ফয়সাল দরজার ফাঁক দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। শিশুটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে বখাটে ফয়সাল পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনার পর শিক্ষার্থীর মা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে বেতাগী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে ফয়সালের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সালিশের পর দুই দিন অতিবাহিত হতে না হতেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে বখাটে ফয়সাল। সোমবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একা পেয়ে শিশুটির ওপর হামলা চালায় সে। সাথে থাকা সহপাঠীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের বিষয়টি জানালে, শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থী জানায়, “ফয়সাল আমাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। শনিবার টয়লেটের ফাঁক দিয়ে আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। এরপর আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে আমাকে হঠাৎ লাথি ও ঘুষি মারতে শুরু করে। এতে আমার তিনটা দাঁত পড়ে যায় আর দুইটা ভেঙে যায়। এখন মুখ ও মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শনিবারের ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে পুলিশে ফোন করেছিলাম। পুলিশ আসার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি শেষ করা হলেও আমার মেয়েকে এভাবে রক্তাক্ত করা হলো। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, সালিশের সময়ই ফয়সালের মা হুমকি দিয়েছিলেন যে পুলিশে অভিযোগ করার ফল তাদের ভুগতে হবে। তিনি এই হামলায় জড়িত সকলের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকারও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, “ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামির মা শিরিনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল অপরাধীসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।”

