রাজধানী শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের (২৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আদালতে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। পরবর্তীতে বাসায় ফিরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদ সদস্যের আইনজীবী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি মামলার শুনানি সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত চত্বরে অবস্থান করছিলেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। সেখান থেকে ন্যাম ভবনের বাসায় ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে তাঁর সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি গ্রহণ করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আদেশের পর আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা আদালতের কাছে উনার পূর্ণ নির্দোষিতা দাবি করেছি। এটি একটি মর্মান্তিক আত্মহত্যার দুর্ঘটনা এবং এতে উনার কোনো প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল না। তা সত্ত্বেও মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”
উল্লেখ্য, ন্যাম ভবনের একই ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করার পর রাতে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

