মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ‘ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর’ প্রকাশের অভিযোগে প্রভাবশালী তিন সংবাদমাধ্যম-সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে তার প্রশাসন ও কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নামে এমন অপপ্রচার বরদাস্ত করা হবে না এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বিশেষ করে পলিটিকোর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে পলিটিকোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন কেনা হয়েছিল। ট্রাম্প এটিকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ওভাল অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সত্য ও সঠিক তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই সততা, দায়িত্বশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সাংবাদিকতা পরিচালনা করতে হবে।” তবে তিনি একটি নমনীয় ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে, এসব প্রতিষ্ঠান যদি তাদের সংবাদ পরিবেশনের নীতি সংশোধন করে এবং সত্য প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে ভবিষ্যতে তাদের পুনরায় হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানো হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর পদক্ষেপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো। সিএনএন তাদের এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা ছাড়া স্বাধীনভাবে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এই নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে সিএনএন।

