প্রধান খবর

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ কঠোর শর্ত দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তিনটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই চূড়ান্ত ও কৌশলগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো-মধ্যপ্রাচ্যের সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের সকল অর্থ অনতিবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া দেশটির কৌশলগত গুরুত্ববহ নৌবাহিনীর ওপর বিশ্বজুড়ে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহারের শর্তও জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কাতার এই আলোচনার মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। কাতারের মাধ্যমেই ইরানের এই তিন দফা প্রস্তাব ও স্পষ্ট বার্তা ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন এই শর্তাবলীর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেন এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই নজর রাখছে তেহরান।

শুধু নিজেদের সংকট ও সংঘাত নিরসনই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। এই আলোচনার অংশ হিসেবে দেশটি প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেরও একটি স্থায়ী অবসান চায়। নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই নিশ্চিত করেছেন যে, সার্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে হুথিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পূর্ণ আগ্রহী।

সব মিলিয়ে, কাতারের এই মধ্যস্থতা এবং ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম সামরিক উত্তেজনা কমবে নাকি সংঘাত আরো নতুন মোড় নেবে-তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *