রাজধানী শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা বেশ কিছু চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব চিঠিতে উঠে এসেছে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও প্রতারিত হওয়ার বেদনাদায়ক বিবরণ। ভালোবাসার গভীর প্রকাশের পাশাপাশি চিঠির প্রতিটি ছত্রে ফুটে উঠেছে নিজেকে ‘দাবার গুটি’ ভাবার নিঃসঙ্গ অনুভূতি।
উদ্ধারকৃত চিঠির একটিতে মরিয়ম তাঁর জীবনের করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করে লিখেছেন, “আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সঙ্গে, কিন্তু জিততে পারিনি-হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।” সততা ও বিশ্বাসের বদলে স্বামীর প্রতারণা তাঁর মনকে কতটা ভেঙে দিয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই পংক্তিতে।
অন্য একটি চিঠিতে নিজের সামাজিক অবস্থান ও সতীন থাকা নিয়ে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “সে ছিল অন্য নারীর স্বামী, কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ।” ভালোবাসাকে ভাগ না করার বার্তা দিয়ে মরিয়ম আরও যুক্ত করেন, “কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়, ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”
এমনকি জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা একটি বিস্ফোরক চিঠিতে স্বামী নজরুলের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা ও অভিশাপ দিয়ে লিখেছেন, “আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি শেষ পর্যন্ত মুখে হাসি রেখেছি-দেখে নাও, এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।”
সংসদ সদস্যের স্ত্রীর এই মর্মস্পর্শী ও রহস্যজনক চিঠিগুলো বর্তমানে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এসব ব্যক্তিগত নোট ও চিঠির মাধ্যমে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তদন্ত ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

