পতিতাবৃত্তি বা পশুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের মতো কর্মকাণ্ডের অতীত অভিজ্ঞতা থাকলেও কোনো আবেদনকারীকে সরাসরি চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা না করার নতুন নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির এক উত্তপ্ত শুনানিতে এই নিয়োগনীতি নিয়ে জোর বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় দেখা যায়, অতীতে পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বা পতিতাবৃত্তির সাথে যুক্ত থাকাকে আর চাকরির ক্ষেত্রে ‘স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতা’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। এই পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেটরদের তীব্র প্রশ্নের মুখে কাশ প্যাটেল ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, মানবপাচার বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা যদি অতীতে জোরপূর্বক এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, তবে সেই ভুক্তভোগীদের আজীবন এফবিআইয়ের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়। তাই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
তবে এফবিআই প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, এই শিথিলতার অর্থ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সংস্থাগতভাবে অনুমোদন দেওয়া নয়। কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন নাকি বাধ্য হয়েছিলেন, তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তাছাড়া আবেদনকারীদের পূর্বের কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য যোগ্যতার কঠিন মানদণ্ডগুলো সফলভাবে অতিক্রম করেই সংস্থায় যোগ দিতে হবে।
যদিও ২০২৬ সালের এই অভ্যন্তরীণ নীতিটির সবকটি শর্ত এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে পরিচালকের মুখের ব্যাখ্যার সঙ্গে প্রশাসনিক প্রয়োগের বাস্তব সামঞ্জস্য কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মনে সংশয় রয়ে গেছে। বর্তমানে সংস্থাটির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বৃহত্তর সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে মার্কিন সিনেট কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ নথি তলব করার উদ্যোগ নিয়েছে।

