ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর অব্যাহত সামরিক চাপ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দখলের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। যদিও ব্রিটেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সৌদির এই জরুরি অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রেখেছেন বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রাথমিক কৌশলগত সহায়তা হিসেবে সৌদি বাহিনীকে পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণমূলক সহযোগিতা দিতে রিয়াদে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম।
মূলত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ১১ সেপ্টেম্বর হুথি যোদ্ধাদের হাতে চলে যাওয়ার পর মারাত্মক কোণঠাসা হয়ে পড়ে রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গত প্রায় সাত মাস ধরে সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির জন্য বাব এল-মান্দেবকেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল সৌদি আরব। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক তেল পরিবহনের প্রায় ১২ শতাংশ সম্পাদিত হয়।
ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানি পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং নিজ দেশের অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে যুক্তরাজ্যের জন্যও এই প্রণালির উন্মুক্ত থাকা অত্যাবশ্যক। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিমান হামলার সহায়তা চাইলেও, ইরান যুদ্ধের কারণ দেখিয়ে সরাসরি অভিযানে নামতে অস্বীকৃতি জানায় ওয়াশিংটন। মার্কিন অসম্মতির পর বিশ্বস্ত মিত্র যুক্তরাজ্যের কাছে রিয়াদের এই সামরিক সহায়তার আবেদন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

