বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির চরম বৈরী রূপ ‘এল নিনো’ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মারাত্মক সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র এবং আবহাওয়া প্রশাসন (এনওএএ)। সার্বিক তাপমাত্রা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করায় অনানুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে অভিহিত করছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শক্তিশালী এই এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কম বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও অস্বাভাবিক দাবানলের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
নোয়ার ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের পূর্বাভাস বলছে, ভয়াবহ এই এল নিনোর সর্বগ্রাসী প্রভাব ২০২৭ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, এই প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতির দরুন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বৃষ্টিপাত কমে আসছে। ইতিমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে দেশে শুষ্ক আবহাওয়া ও কৃত্রিম খরার মতো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর বিরূপ প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিকভাবে অতিরিক্ত প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম খাদ্যসংকটে পতিত হতে পারেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, বৈশ্বিক খরা ও চরম শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে ধান ও ভূট্টাসহ অন্যান্য প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাপক হুমকির মুখে পড়বে। সার্বিকভাবে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্বজুড়ে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছে ডব্লিউএফপি।

