শারীরিক অবস্থার অবনতি ও হৃদরোগের জটিলতা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে একটি নির্দিষ্ট বাসভবনে সশস্ত্র নজরদারিতে গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিতে মার্কিন বিচারকের কাছে এই আইনি আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার কারাকাস থেকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসার পর থেকেই ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেসের শারীরিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে। আইনজীবীরা মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করেন, আটকের আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং কেবল হৃদযন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যা (মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস) নিয়ন্ত্রণের জন্য মাসে একবার নিয়মিত ইনজেকশন নিতেন। তবে মার্কিন হেফাজতে থাকা অবস্থায় গত ২৯ জুলাই তাঁর একটি ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর থেকে ফ্লোরেসকে তাঁর প্রয়োজনীয় নিয়মিত ইনজেকশনটি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তাঁকে রক্ত পাতলা করার ওষুধ, স্ট্যাটিন এবং বুকে ব্যথার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিনসহ চার ধরনের ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদযন্ত্র পরীক্ষা ও জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো ডিটেনশন সেন্টারের সীমিত পরিবেশে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সুস্থতা লাভ করা দুঃসাধ্য; তাই ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাঁকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাসায় স্থানান্তরের জোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বের শর্ত অনুযায়ী, ফ্লোরেস সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নজরদারিতে থাকবেন এবং শুধুমাত্র আদালত ও প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। একই সাথে বাসাটিতে ভিডিও নজরদারি এবং ফোনকল রেকর্ড করার পূর্ণ ব্যবস্থা থাকবে। তবে মার্কিন জেলা বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন ফ্লোরেসের এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের ৩ জানুয়ারি কারাকাসের বাসভবন থেকে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। তবে শুরু থেকেই নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আসছেন এই দম্পতি। ফ্লোরেস ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল এবং জাতীয় পরিষদের অন্যতম প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা ছিলেন। আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্কের সংশ্লিষ্ট আদালতে তাঁদের বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

