ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম শহরের একটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ আরও অন্তত সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও স্থানীয় হুতি সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, আল-জাওফ শহরের ‘সেন্ট্রাল কারেক্টিভ ফ্যাসিলিটি’ বা প্রধান সংশোধন কেন্দ্রে ওই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই আল মাসিরাহ টিভিতে ধ্বংসস্তূপের চিত্র সম্প্রচার করা হয়, যেখানে ধসে পড়া ভবনের নিচে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। তবে হুতিদের তোলা এই গুরুতর বিমান হামলার অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি সৌদি সরবরাহ ট্রাকে হুতি বাহিনী পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আল মাসিরাহ টিভি। হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে সৌদি আরবকে আল-জাওফে সাধারণ মানুষের ওপর ‘গণহত্যা’ চালানো, গোয়েন্দা ড্রোন ওড়ানো এবং তাদের অনুগত বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ তুলে কঠোর হুশিয়ারি দেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ইয়েমেনের সীমান্ত এলাকায় আবারও চরম উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও এই ঘটনার পর বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

