প্রধান খবর

আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও ঝাড়ু মিছিল

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অতীত ভূমিকা ও নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে আশুগঞ্জের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন। একই সঙ্গে তার বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজারো নেতাকর্মী আশুগঞ্জ বাজারস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন।

কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ। সমাবেশে বক্তব্য তুলে ধরেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জয় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম চৌধুরীসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে হাজী মো. Shahজাহান সিরাজ সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পারিবারিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটসহ নানাবিধ ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা যে ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন, তা তৃণমূল বিএনপি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য তাকে আশুগঞ্জের মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।”

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে ঝাড়ু হাতে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আশুগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির অতীত শাসনকালের সমালোচনা করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট তৈরি হবে না-এমন দাবি যুক্তিযুক্ত নয়।” এ ছাড়া দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির প্রশ্নেও বিএনপির অতীত রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি। রুমিন ফারহানার সেই বক্তব্যের জের ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *