প্রধান খবর

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল কায়দে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা প্রকাশ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সাদাকালো ছবি সম্বলিত স্মরণ পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্ট কার্ডটিতে লেখা ছিল, “উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।”

এই স্মরণ বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পোস্টের কমেন্ট বক্সে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সচেতন ও তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করতে থাকেন। বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি সৃষ্টিকারী একজন নেত্রীকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই নীতিহীন ও ঐতিহাসিক চেতনার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দেন।

সমালোচকদের প্রধান যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ভাষানীতি এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর জোরপূর্বক উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসহ বিভিন্ন স্থানে প্রদত্ত বক্তব্যে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে, যা মূলত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করেছিল। এ ধরনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সত্ত্বেও জিন্নাহকে জাতীয় স্মৃতিতে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরায় সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *