বাংলাদেশ থেকে কোনো ধর্মীয় বক্তা বা ইসলামি হুজুরকে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাজ্য বিজেপির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত একটি দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ঘিরে এই মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী তার বক্তব্যে রাজ্যের পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন, অতীত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য ইসলামি বক্তা অবাধে পশ্চিমবঙ্গে আসার সুযোগ পেতেন। তবে বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সেই সুযোগ আর কাউকে দেবে না। তার মতে, এ ধরনের যাতায়াত রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বক্তব্যে দুই বছর আগের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এক ধর্মীয় বক্তা উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে আয়োজিত একটি সম্মেলনে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। শুভেন্দুর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তা জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকার জনবিন্যাস বা ‘ডেমোগ্রাফি’ বদলে দেওয়ার হুংকার দিয়েছিলেন। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রকেও এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে রুখে দেওয়ার মতো উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে এসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া এবং ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সে কারণেই এই অঞ্চলে আধ্যাত্মিক ও জাতীয়তাবাদী জাগরণের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৎকালীন সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে লাগাতার সরব রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যদিও সে সময় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে শুভেন্দুর সেই দাবির কোনো বাস্তব সত্যতা বা ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

