ইরানে চলমান সামরিক সংঘাতের মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের মূল্যের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন দেশটির সাধারণ ভোক্তারা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত জ্বালানি খাতে মার্কিন নাগরিকদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হয়েছে। রিয়েল-টাইম তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রতি দুই মিনিটে এই খরচের পরিমাণ আরও প্রায় ১০ লাখ ডলার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুলের ‘ইরান ওয়ার এনার্জি কস্ট ট্র্যাকার’-এর তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে ৭৬০ ডলারেরও বেশি বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে মার্কিন বাজারে ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে; সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতি গ্যালোন ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ৫.৯০ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত এই জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে, যেখানে ভোক্তারা অতিরিক্ত প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ বিলিয়ন এবং ফ্লোরিডায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেল ও পেট্রোলের চড়া মূল্য সরাসরি যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন খাতকে সংকুচিত করে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
আগামী মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাসেরও কম সময় বাকি থাকা অবস্থায় জ্বালানি তেলের এমন লাগামহীন দাম সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠায় এই সংকট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

