প্রধান খবর

মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী এবং একটি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংঘাতময় এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন এই যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি নৌযানগুলোকে অব্যাহত হেনস্তা করছিল এবং একটি অবৈধ সামুদ্রিক অবরোধ বাস্তবায়নে যুক্ত ছিল। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর উভয় যুদ্ধজাহাজই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তারা সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার ঘটনা স্বীকার করেছে এবং এর মাধ্যমে তাদের সফল অভিযানের স্বীকৃতি মিলেছে। পরবর্তীতে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

এর আগের দিন শনিবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেল ট্যাংকারসহ মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও তিনটি নৌযানে হামলা চালানোর কথা জানায় আইআরজিসি। তবে আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা নিশ্চিত করেছে যে আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও জাহাজগুলো সফলভাবে হামলা রুখে দিয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত বা জাহাজের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি তাদের।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালিয়েছে বলেও সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এই প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা এখন চরম ভয়াবহ সামুদ্রিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *